সমস্ত ভূতের ঘটনা গুলি কোন না কোন জায়গা থেকে শুরু হয়। কোন 100 বছরের পুরনো গাছ কিংবা কোন ঘন জঙ্গল। কিন্তু সব থেকে লোম খাড়া হয় কখন জানেন? যখন আমরা কোন পুরনো বাড়ির কথা শুনি। বাড়ি এমন একটি জায়গা যেখানে মানুষ নিজেকে খুব শেভ মনে করে কিন্তু কোন কোন সময় এই বাড়িটি একটি ভূতুড়ে কাহিনীতে বদলে যায়। হন্টেড হাউস এমন একটি জায়গা যেখানে এমন কিছু কিছু লোকের আত্মা ঘোরাফেরা করে যারা ওই ঘরে কোন না কোন এক সময় ছিল অথবা তাদের ওই বাড়ির সঙ্গে কোনো পুরনো সম্পর্ক আছে। 

আকাল মৃত্যু যখন হয় তখন কিছু কিছু আত্মার তাদের অন্তিম ইচ্ছা বাকি থেকে যায়। আর সেই জন্যই ঘরের মধ্যে কিছু অদ্ভুত ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। এই পৃথিবীতে আনুমানিক 20 লাখের উপরে এরকম হন্টেড বাড়ি রয়েছে। কিন্তু আজ আপনি যেই বাড়ি গুলির কথা শুনবেন সেটা আপনার গায়ের লোম খাড়া করতে বাধ্য করবে। শুধু একবার পুরো ভিডিওটি শুরু থেকে শেষ অবধি দেখুন। আপনি ডাইনি ভুত-প্রেত এসব বিষয় মানেন কিনা জানি না কিন্তু এই ঘটনাগুলি একবার শুনুন তারপর আপনি একবার হলেও ভাববেন।

প্রথম হন্টেড হাউসঃ

৫) Rose Hall, Montego Bay, Jamaika: এই ঘরটি 1717 সালে তৈরি হয়েছিল। এই ঘরটিতে জন পালমার ও তার স্ত্রী এনি পালমার থাকতেন। কিন্তু এই এনি পালমারই এই গল্পের সবথেকে ভয়ঙ্কর মহিলা। জন এনির সঙ্গে বিয়ে তো করেছিল কিন্তু এনির কোন ইতিহাস সে জানতো না। এ্যানির জন্ম হ্যডি নামক একটি জায়গায় হয়েছিল। যখন এনির দশ বছর বয়স ছিল তখন তার মা-বাবা টাইফয়েড জ্বরে মারা যায়। তখন এনি কে একজন দায়ী পালন করা শুরু করে। আর দায়ী এনি কে কালা জাদু থেকে শুরু করে টোটকা আরও নানা তন্ত্রমন্ত্র শেখানো শুরু করে। 

আবার গল্পে আসি, যখন এনির বিবাহ জনের সঙ্গে হয় তার কিছুদিন পরেই এনি জনকে মেরে ফেলে আর সে নিজের নামে পুরো বাড়িটি করে নেয়।এরপর আরও তিনবার সে বিয়ে করে। আর সেই তিনজন স্বামীকেও সে হত্যা করে এবং তার পাশাপাশি যত চাকর তার বাড়িতে কাজ করত সবাইকে সে বলি দিত। কিন্তু একবার এক চাকরের ছেলে যার বাবা এনির বাড়িতে কাজ করত জাকে অ্যানি হত্যা করে ওই চাকরের ছেলে বদলা নেওয়ার জন্য সে এনি কে মেরে ফেলে। কিন্তু এটা শোনা যায় সে এখনো এনি সেই বারিতে ঘুরে বেড়ায়।

1965 সালে এই বাড়িটিকে একটি মিউজিয়ামে বদলে দেওয়া হয়। আর এখনো অব্দি যেই স্টাপই মিউজিয়ামটি তে কাজ করাতে আসে সবাই রাত্রিবেলা কিছু না কিছু প্যারানরমাল ঘটনার সম্মুখীন হয়। যেমন দরজা একা একা বন্ধ হয়ে যাওয়া এছাড়াও মানুষের এমন চিৎকার শুনতে পায় তারা মনে হয় কাউকে যেন মারার চেষ্টা করা হচ্ছে আর এই শব্দ রাত্রিবেলা পুরো বাড়িতে শুনতে পাওয়া যায়।

এবার আসি দ্বিতীয় গল্পেঃ

৪) The Whaley House, California: 1856 সালে একজন ব্যবসায়ী যার নাম ছিল থমাস ভ্যালি আর তার স্ত্রী এনা ভ্যালি তারা নিজেদের জন্য একটি খুব সুন্দর বাড়ি বানায়। কিন্তু তাদের এটা জানা ছিল না যে যেই জায়গায় তারা বাড়িটি বানাচ্ছে সেটা এক সময় কবরস্থান ছিল। বাড়ি তৈরি হওয়ার পরে তারা সেই বাড়িতেই সাধারণ ভাবে থাকা শুরু করে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই কিছু প্যারানরমাল ঘটনা শুরু হয়ে যায়। থমাসের যে ছোট মেয়ে ছিল সে সব সময় বলতো জে সে কারো হাঁটা-চলার শব্দ শুনতে পায়। কিছুদিন পরেই থমাস একটি নতুন ছেলের জন্ম দেয়। কিন্তু সেই মেয়েটি যখন মাত্র 18 মাসের ছিল তখনই তার দুর্ভাগ্যবশত মৃত্যু হয়। 

১৮৮৫ সালে তাদের মেয়ে ভায়োলেট ভ্যালি সেও নিজেকে গুলি করে আত্মহত্যা করে। পরবর্তীতে কবরস্থানের উপরে তৈরি এই ঘরের পরিবারের সঙ্গে সব সময় খারাপ জিনিসই হয়েছে। আস্তে আস্তে পুরো পরিবার শেষ হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সবার মৃত্যু হয়। আর শেষে থমাস ভ্যালি আর ওনার স্ত্রী অ্যানা ভ্যালি তাদেরও মৃত্যু হয়। এর পরে যেই পরিবারই ঘরে থাকার করার চেষ্টা করে সবার সঙ্গে কোনো না কোনো খারাপ জিনিস ঘটে। যেমন যেমন সময় পার হতে লাগলো  অদ্ভুত প্যারানরমাল ঘটনার কারণে ওই বাড়িটি একটি ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পেতে থাকে। আর তার পরে কেউ আর সেই বাড়িতে থাকার সাহস দেখায় নি। আর শেষে সেই বাড়িটিকে একটি মিউজিয়াম এ পরিবর্তন করা হয়। কিন্তু মাঝে মাঝে এখনো শোনা জায় যে ওই ঘরের মালিক থমাস ভেলি কে এখনো অনেক লোক দেখতে পায়। 

একজন অনেক বড় টিভি অভিনেতা জার নাম রেগিস ফিলভেন তিনিও এই ঘরে ঢুকেন অ্যাডভেঞ্চার এর জন্য কারণ তিনি আত্মাকে বিশ্বাস করতেন না কিন্তু যখন তিনি বাড়ি থেকে ফিরে আসেন তখন তিনি সক থেকে যান। তিনি বলেন, তিনি ওই বাড়িতে থমাস ভেলইর স্ত্রী এনা ভেলি কে দেখতে পান। যার ঘটনা তিনি এতদিন শুনে আসছিলেন। তিনি তাঁকে স্বচক্ষে দেখতে পান। তিনি বলেন রাত্রিবেলা হঠাৎ করে সে তার সামনে চলে আসে আর তার কিছুক্ষণ পরেই হাওয়া হয়ে যায়। তিনি সবার সামনে এটা ঘোষণা করেন যে আজকের পর থেকে আমি ওই বাড়ির দিকে তাকাবো পর্যন্ত না। তিনি আরও বলেন বেশিরভাগ মানুষ এই বিষয় গুলিকে বিশ্বাস করেন না কারণ তিনি এমন জিনিস কে কোনদিন দেখেননি। কিন্তু আমি দাবির সাথে বলতে পারি যে ওই বাড়িতে কিছু অদ্ভুত জিনিস অবশ্যই ছিল। একজন কমেডিয়ান জার নাম টম গ্রীন তিনিও এই বারিতেএকবার রাত্রি কাটানোর জন্য গিয়েছিলেন এটা দেখার জন্য যে কি হয় সেই ঘরের মধ্যে এটা সেই সময় ইউরোপের সবথেকে ভুতুড়ে বাড়ি গুলোর মধ্যে একটি ছিল। তাই কিছু অ্যাডভেঞ্চারাস লোক কিছু ফেমাস লোক সেই বাড়িটিতে যেতেন। 

টম গ্রীন এটা বলেন কোন এক বাচ্চার চিল্লানোর আওয়াজ বাড়িটিতে তিনি শুনতে পেয়েছিলেন। অনেক ভয়ঙ্কর আর অন্য রকম আওয়াজ ওই ঘরগুলি থেকে শোনা যাচ্ছিল। ওই সময় যখন সেই পরিবার বেঁচে ছিল তখন তাদের কাছে একটি কুকুর ছিল যার নাম ডলি। আজ অবধি  যতজন এই বারিতে এসেছিল তাদের মধ্যে কিছু মানুষ একটি কুকুরকেও সেই বাড়ির আশেপাশে ঘুরতে দেখেছিল যা রেনডম ভাবে যেখানে সেখানে দেখা যেত আবার উধাও হয়ে যেত। বিজ্ঞানের নজরে এই ঘটনাগুলিকে যদি ব্যাক্ষা দেওয়া যায় তবে এই ঘটনা গুলি আজ অবধি unsolved আর unexplainable. যদি ঘটনাগুলিকে ইত্তেফাক হয়ে থাকে তাহলে কিন্তু ইত্তেফাক একবারই হয় বারবার হয় না। 

প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর অনেক ধরনের সাইন্টিফিক যন্ত্র ব্যবহার করেন যেমন ইভিপি, ইএমএফ মিটার, মোশন সেনসর, থ্রিডি ম্যাপি্‌ ক্যামেরা, ডিজিটাল থার্মোমিটার, থার্মাল ক্যামেরা আরো অনেক কিছু অর্থাৎ এটাই হলো সাইন্স অফ ঘোস্টস। এর জন্যই আমাদের ভূত আর আত্মাদের অবহেলা করার বদলে এদের বিজ্ঞানসম্মতভাবে জানা এবং বুঝার চেষ্টা করা উচিত। টেকনোলজি সাইন্স এবং রোবটের এই বিশ্বে এখনো এমন অনেক প্যারানরমাল জিনিস রয়েছে যেটা কিনা বিজ্ঞান কেও হার মানায়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন